
গত ছয় বছরে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক (বর্তমানে বহিষ্কৃত) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বার্ষিক আয় বেড়েছে প্রায় ৯২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রধানত আইন পেশা এবং ব্যাংকে রাখা স্থায়ী আমানতের মুনাফা থেকেই এই আয় বেড়েছে বলে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা সূত্রে জানা গেছে।
২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাগাদ জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, রুমিন ফারহানার বর্তমান বার্ষিক আয় ৯৭ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। অথচ ২০১৯ সালে তার বার্ষিক আয় ছিল মাত্র ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। বর্তমানে তার কাছে নগদ ও ব্যাংকে জমা রয়েছে ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা রয়েছে ৩০ লাখ ৪২ হাজার ৬৯৪ টাকা এবং হাতে নগদ রয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৯ টাকা। ২০১৯ সালে তার কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৪২২ টাকা।
ধানমন্ডির ল্যাবরেটরি রোডে ৫ কাঠা জমি ও একই এলাকায় পাঁচটি ফ্ল্যাট এবং পল্টনে হাজার ২৫৮ দশমিক ৮৮৪ বর্গফুটের বাণিজ্যিক স্পেস থাকলেও এর সবই তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ২০১৯ সালের মতো এখনো তার ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে; অর্থাৎ গত ৬ বছরে তার স্বর্ণের পরিমাণ বাড়েনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন রুমিন ফারহানা। জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি এই আসনটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়ে দেওয়ায় রুমিন দলীয় মনোনয়ন পাননি। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
নির্বাচনে রুমিন ফারহানা মোট ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছেন। এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা তার নিজস্ব আয় থেকে এবং বাকি ৫ লাখ টাকা প্রবাসী আত্মীয়ের কাছ থেকে ধার নেবেন। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার নামে কোনও মামলা নেই; আগের সব মামলা আদালত কর্তৃক নিষ্পত্তি হয়েছে।
বহিষ্কার প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের বলেন, “দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি, এতে আমার কোনো ক্ষোভ নেই। দলের নির্দেশে আমি যখনই দরকার পদত্যাগ করেছি। দল বহিষ্কার করলেও আমি জনগণের পাশে থেকে আমার রাজনীতি চালিয়ে যাব।”
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে তার বাবা ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদও এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন।
আইএ/সকালবেলা